দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের সেনাবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলিরেজা এলহামি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ২০০টিরও বেশি শত্রু বিমান ভূপাতিত করতে সহায়তা করেছে।
মঙ্গলবার আকাশ প্রতিরক্ষা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ দাবি করেন।
এলহামি বলেন, ইরান নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী দেশীয় প্রযুক্তিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি ও মোতায়েন করে আসছে। এসব ব্যবস্থার কিছুটির কোনো পরিচিত বিদেশি সমতুল্য নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক ৪০ দিনের যুদ্ধে ইরানের দেশীয়ভাবে তৈরি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি অংশ মোতায়েন করা হয়েছিল। এসব ব্যবস্থা ২০০টিরও বেশি শত্রু বিমান ভূপাতিত করতে সহায়তা করেছে বলে জানান তিনি।
এলহামির দাবি, এসব ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য, সক্ষমতা ও পরিচালন পদ্ধতি সম্পর্কে প্রতিপক্ষের সীমিত ধারণা ছিল। যুদ্ধের কয়েকটি ক্ষেত্রে ইরানের কোন ব্যবস্থা তাদের বিমান বা উড়ন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে, তা-ও প্রতিপক্ষ জানতে পারেনি।
সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করতে আত্মনির্ভরতার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে ইরানের সেনাবাহিনীর সমন্বয়বিষয়ক উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মাদ সাদেকিয়ান জানান, দেশজুড়ে আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে আকাশপথের লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করা, পরিচয় নির্ধারণ, বাধা দেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলোতে আঘাত করা।
তিনি জানান, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের ৩ হাজার ৮০০টির বেশি স্থানে মোতায়েন রয়েছে। এসব স্থানের মধ্যে মরুভূমি, উপকূলীয় অঞ্চল, দ্বীপ ও পার্বত্য এলাকাও রয়েছে।
ইরানের সেনাবাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল আমির হাতামি বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা দেশের আকাশসীমা সুরক্ষায় আকাশ প্রতিরক্ষার কৌশলগত গুরুত্ব আবারও তুলে ধরেছে। তিনি আকাশ প্রতিরক্ষাকে দেশের আকাশ সুরক্ষায় ‘প্রতিরক্ষা শক্তি ও আত্মনির্ভরতার প্রতীক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সেনাবাহিনীর সমন্বয়বিষয়ক উপপ্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সাইয়ারি বলেন, আকাশ প্রতিরক্ষা দেশের প্রতিরক্ষা শক্তির অন্যতম স্তম্ভ এবং জাতীয় নিরাপত্তার সতর্ক প্রহরী। গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থাপনা সুরক্ষায় বাহিনীটি সার্বক্ষণিক নজরদারি ও প্রস্তুতি বজায় রাখে বলেও জানান তিনি।
নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানিও সাম্প্রতিক যুদ্ধে আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তার দাবি, দেশীয় দক্ষতা ও নিজস্বভাবে তৈরি ব্যবস্থা ব্যবহার করে তারা ইরানের আকাশসীমা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে যৌথ হামলা চালায়। এরপর ইরান ইসরায়েল এবং অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে কয়েক দফা পাল্টা হামলা চালায়।
/অ